E- দু ই পা তা প ত্রি কা ১০৬তম,পঞ্চম সংখ্যা , ২০২৫ ।।জয়িতা ভট্টাচার্য ।। সম্পাদক: নীলোৎপল জানা

 E- দু ই পা তা  প ত্রি কা

১০৬তম পঞ্চম সংখ্যা, ২০২৫

সম্পাদক: নীলোৎপল জানা

Mail iD: lokpathduiipatapatrika1978@gmail.com 


দেবীকে_

জয়িতা ভট্টাচার্যের গুচ্ছ কবিতা 

ধুলো থেকে উঠে বসে দেখি আরও একটা দিনের ছবি।

আমার বাড়ির সামনে পিচঢালা যুক্তির পথ।

এই পথ ধরে তুমি আসবে না। 

পেছনপানের ঘাসপথে,যেখানে কল্পনা যেখানে কুয়াশা করে টলটল

ওই পথে আসো তুমি। ঝড় হয়। 

বারান্দার মানি প্লান্ট আরো জোরে আঁকড়ে ধরে সাবেক।

একমুঠো রাত ছলকে পড়ে সংসারে।

আমাদের কান্নায় ধুয়ে যায় সমস্ত ধুলো।

আমরা হেরে যাই আবার।

তুমি যুক্তি ছড়ানো পথে ফিরে গেলে- 

আমি গুছিয়ে গুছিয়ে রাখি ভাঙা কাঁচের চুড়ি।


আমরা কি কখনও নৌকোয় উঠব না?

যাবো না কি লেভেল ক্রসিং পার হয়ে,ওপারে?

যেখানে তাড়া করবে না দেবীর প্রতিবিম্ব?

পর্যটন       

বৈষ্ণবী খুঁজে ফেরে পরশপাথর।

কলমী শরীর তার। মাধুকরী।

এখান সেখান।জলে ও স্থাবরে।মধুপের লোভে

 ফুল ফোটে। ফল। আগুন জ্বলে...পোড়ে শরীর। পোড়ে। 

দীর্ঘদেহী অভয় ফকির আসে।বৈষ্ণবী যায় পর্যটনে মোহিনী রাত জাগে।

বৈষ্ণবী পায় তীর্থের জল;ডুব দিয়ে সে ভেজায় বেনী।কলমী ঝোপে লুকিয়ে থাকে সাপ।

অভয় ফকির পিছন ফেরে, কন্ঠিমালা গলায় তোলে।কালো মেঘেও উদ্দিপনের তাপ।

বৈষ্ণবী তার স্নিগ্ধ আলোয়,আগুন জ্বালে অগাধ জলে।

উষাকালে পড়ে থাকে শূন্যবাসা।ধুলোবালি।দেহসুখ রাতের মতোই ফুরোয়।

বীজ

সেখানে চুম্বন করেছি যেখানে মাটি ভিজে গেছে ঘামে। 

পচা গলা স্বপ্নের ভেতর রেখেছি প্রণয়।

জলের ভেতর থেকে উঠে এসে প্রটোজোয়া একদিন গাছ হবে,মাছ হবে,

পাখি হবে।দুই পা দুই হাত হবে!

একদিন স্ফটিক সচ্ছ জলে মুখ দেখবে একজন সম্পূর্ণ মানুষ। 

আজ,সেই সব ক্ষরণের কথা লিখি।স্মরণের কথা লিখি।

চন্দনের সুগন্ধে দাউ দাউ করে জ্বলবে জীর্ণ পাতার ক্ষোভ।তারপর,

গুহামুখে নেমে আসবে আচমকা বজ্রপাত।স্বপ্ন সত্য হবে।

মাঘী পূর্ণিমায়

একবার তাকাও আলো হবে দিন। 

একবার তাকাও সেরে যাবে রোগ।

খুলে যাবে জড়ির আঁচল যদি প্রান্ত ধরে টান দাও নিখাদ জীবন।

আমার নিকট থেকে দূরে গিয়ে কতদূর যাবে!

পদচিহ্ন চিনে চিনে তোমার চলে যাব ফের যেখানে হাস্নুহানা ফুটে আছে বুকের ভেতর।

সমস্ত মিলনহেতু ক্ষয় আর আঘাত থেকে উৎসারিত শিৎকার।শোনো।তাকাও__

ওই দেখা যায় বউ ঠাকুড়ানির হাট। 

শুরু হোক বাসন্তী উৎসব। এসো। এসো প্লিজ...

পার্থিব

কথা নেই। থেমে আছে যন্ত্র। রক্ত ঝরে_রক্ত ঝরে রক্ত ঝরে

কুয়াশা আরও গাঢ় সমাচার বয়ে আনে।

শুকনো মৃত ঠোঁটে এখনও পাপড়ি লেগে আছে। 

ক্ষয় হয় জীবনের।এত ম্যাড়ম্যাড়ে রোদ! 

সংকোচ মাথা হেঁট করে আগুন দেখে শহরে। 

লাল ফিতে জলে ভেসে আসে। 

খোলা চুল মেয়ে দেবী হয়ে ডুবে গেল জলে-- জীবনে--প্লাবনে।

শূন্য থেকে হবে কি আবার শুরু?

হয়ত হয়ত পুনরায়

একবার ।

 ততদিন অন্তরীণ বিরহ আঁধার--

চমৎকার হয়ে ফুটে থাকে মেঘের আড়াল থেকে

========================


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ