E- দুইপাতা পত্রিকা ১০৬তম তৃতীয় সংখ্যা, ২০২৫।।কবি সুনীল মাজি।।সম্পাদক: নীলোৎপল জানা

    E- দু ই পা তা  প ত্রি কা

১০৬তম তৃতীয় সংখ্যা, ২০২৫

সম্পাদক: নীলোৎপল জানা

Mail iD: lokpathduiipatapatrika1978@gmail.com 

সুনীল মাজির  পাঁচটি কবিতা 

ছায়া 

গাছের নীচে দাঁড়িয়ে রয়েছি।

এমন নয় যে  হাঁটতে হাঁটতে খুব পুড়ে গিয়েছি রোদে 

এমন নয় যে বৃষ্টি আর বজ্রের ভয়ে আশ্রয় নিয়েছি। 

আমি গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে গাছটাকে  দেখছি

পাতায় পাতায় রোদকে আড়াল করে এমন দাঁড়িয়েছে 

অনেকগুলো পাখি বসেছে, অনেকগুলো পতঙ্গ উড়ছে 

আমি গাছের ছায়া থেকে নেমে গিয়ে তোলার চেষ্টা করি, 

যে আমার নিজের ছায়া।

সে পড়ে থাকে —সে মাটির মায়ায় আটকে থাকে

কখনও দেয়ালে সেঁটে থাকে কালো ছবি হয়।

আমি তাকে ধরতে গেলে সে কুঁকড়ে ছোট হয়ে যায়।

আমি জোরে চিৎকার করলে পাখিগুলো উড়ে পালায়

পতঙ্গগুলো পাতার আড়ালে লুকায়।

আমি লজ্জিত হই।

আমি সূর্যের আগুনে দাঁড়িয়ে গাছের মতো ছায়াটাকে দেখছি 

আশ্চর্য এক স্নিগ্ধরূপ ঢুকে পড়ছে মায়ের মুখ বাবার হাত 

দাদা ডাকছে গাছ থেকে নেমে আয় দোলনা চড়ব 

আমি ছায়ার ভেতরে ঢুকে পড়ছি হাতে আমার সূর্যঘড়ি।


আলো 

মোমবাতি জ্বলছে।

কার হাত? কিভাবে জ্বলে উঠল আলো?

মঞ্চ ও মিছিল ঘিরে গাছের মতো হাজার মানুষ।

মানুষের নিঃশ্বাসে ঝড় ছিল। হঠাৎই  দাবানলের মতো 

কথার ঘর্ষণে হাজার করতলে জ্বলে উঠল আলো।

বলো কার হাত? তবে কি মিথ এর আড়ালে ছিল ইতিহাস!


প্রিয়মুখ 

এই আমি চুম্বন দিলাম, তোমার ওষ্ঠ ও অধর রামধনু হল।

হয়তো হৃষিকেশের পথে হাঁটতে হাঁটতে পাহাড় দেখে উদাস হয়েছ, 

হয়তো হ্রদের জলে নেমেছে তোমার শরীরের বাহান্ন অঙ্গ।  

যত নামছ, তত আমি তীর্থ করছি জলের ভেতর।

কেউ কি তীর্থপীঠ করতে চেয়েছে কখনও? ভাবো—

অই নীল আকাশ জুড়ে কার স্বর? কার মুখ আলোর আয়না?

এই আমি তোমার বুকের জলপদ্মে রাখলাম হাত,

ঝরনায় যাব না উৎসের খোঁজে।

পাহাড়ের চূড়ায় ঘন্টা বাজছে— হয়তো আরতি শুরু হবে। 

দেবসেনার কাছে প্রথম যৌবন-ভেল থাক।

কার লিঙ্গের পাশে এই শক্তি-বাণ ?

উঠে এস বল্লী —স্থলপদ্ম হয়ে আমি প্রতীক্ষায় আছি।


বিস্ময় 

হাজার বছর আয়ু নিয়ে আছে কত যে মিথ্যা 

অযুত বছরের আয়ু নিয়ে আছে কত বেইমানি


এত দীর্ঘ আয়ু নিয়েও একবিন্দু ভালোবাসা পায়নি 

তবুও মানুষ ঘৃণার মুখোশ পরে রাহাজানি ধর্ষণ হত্যা…


তবুও মানুষ একটি পতঙ্গের সুরের দিকে চেয়ে থাকে 

একটি সুন্দরের প্রতি গভীর অনুরাগ ও তীব্র আকুতি 


মনের মহীজে রয়ে গেছে শিশির স্নাত প্রেমের প্রতীতি 

একটি আলোর তরঙ্গের স্পর্শ পেতে খোঁজে জনান্তিকে


স্থলপদ্ম 

একদিনের আয়ু নিয়ে আছি, শরীরে ধরে আলো।

হয়তো এই সব কিছুই নির্ধারিত ছিল।

তেমন কিছু না, অন্য কিছু না।

অই সূর্যের আলোয় নিজে হতে চেয়েছি নিজের আয়না।

আমার কোনও প্রতিযোগিতা নেই, কারো সাথেই।

নিজেকে খুঁজেছি আমি অই সূর্য রঙেই।

আমি হতে চেয়েছি এক বিশ্বস্ত চোখ।

 অন্ধকার ভেঙে প্রেমের গহীনে ডুবে আলোর নির্মোক।

===================

sunilmaji729@gmail.com  30 10 25

 খড়্গপুর 30/10/25



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ