E- দু ই পা তা প ত্রি কা
১০৬তম দ্বিতীয় সংখ্যা, ২০২৫
সম্পাদক: নীলোৎপল জানা
Mail iD: lokpathduiipatapatrika1978@gmail.com
সুধাংশুরঞ্জন সাহা-র পাঁচটি কবিতা
অনেক দিন বাদে
অনেক দিন বাদে তোকে দেখে চমকে উঠলাম
কত বদলে গেছিস তুই
তোর চোখে অরণ্যের হাতছানি
ভ্রূবিলাসে পাখির উড়াল
সারা শরীরে সবুজ পাতার আলোআঁধারি
পাশে কুলু কুলু বয়ে চলেছে শীতের তিস্তা...
হৃদয়পুরে জ্বলে উঠছে ভয়ঙ্কর আলো
সেই আলোয় হারিয়ে যাচ্ছে সব চেনাপথ ...
ইচ্ছে
এক একবার ইচ্ছে হয় তোমার সমুদ্রে ঝাঁপ দিই ,
পরখ করি রহস্যেঘেরা তোমার স্বপ্নের উপমহাদেশ,
যার ভিতর হয়তো আছে এক সুরের ভুবন,
যার হদিস কেউ জানে না।
ধসে জর্জরিত পাহাড়ে শঙ্কিত গাছের মতো আছি,
যে কোনো মুহূর্তে মুখ থুবড়ে পড়ব!
এক একবার ইচ্ছে করে তোমার গভীরে ডুব দিই,
দেখে আসি লুকনো মণিমুক্তোর দেশ,
দেখে আসি হৃদয়পুরের চর
যেখানে আছে চিরহরিতের রহস্যসূত্র।
অন্যপথ
বস্তুত সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত আমার পথে পথে কাটে।
আদতে এক একটি কবিতা এক একটি পথের ইশারা,
পথ তাই বাতলে দেয় নতুন পথের ঠিকানা।
কাঁধে সংসারের বোঝা নিয়ে নিরন্তর এই পথচলা,
পথের সৌন্দর্য পথ চলার ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।
কবিতা আর লিখব না ভেবেছি যতবার,
ততবারই কবিতা আমাকে ঘিরে ফেলেছে আমার অজ্ঞাতসারে।
এক পথ থেকে সরে গিয়ে দেখি,
সেও এক ছায়াস্নিগ্ধ কবিতার ভিন্নপথ।
হারিয়ে যাবে বলেই
হারিয়ে যাবে বলেই তুমি আমার প্রেমে পড়েছো!
বৃষ্টি নামলেই এই প্রশ্নের জবাব খুঁজি একা।
জ্বরে আমার পা টলমল তবু বৃষ্টিতে ভিজব,
বৃষ্টি ভিজেই জ্বরকে আমি শহর ছাড়া করব।
আগুনে পোড়া শহরে বৃষ্টি এলে একমনে ভিজি।
বৃষ্টি এলে শহরের গাছেরা হেসে ওঠে খুশিতে।
আশ্বিন কিংবা কার্তিক, বৃষ্টির কোনো ঋতু লাগে না,
বৃষ্টি নামলেই বর্ষা, সারা শহরেই নৌকো নামে।
ঠনঠনিয়ার জলে বই ডোবে, বই ভেসে যায়...
এই বৃষ্টিতে মনের আগুন নেভে না কোনোভাবে।
ব্যথা ভোলাতে পারে কি কেউ, আছে তেমন মানুষ?
বর্ষাকে হারাতে পারে, ফেরাতে পারে, হারানো দৃষ্টি!
আমাকে তুমি ভাসাবে বলে নিজেই ভেসে পড়লে,
সব জলাশয়ে থাকে কি ডুবে মরার মতো জল!
শোকের গান
(আকাল প্রয়াত কবি মলয় দাসকে নিবেদিত)
সব কোলাহল সরিয়ে রেখে নিঃশব্দে শুয়ে আছো একা।
প্রিয় স্পর্শের অভিমান তোমার মুখে লেগে আছে।
তোমার মনে জমেছিল যে অশ্রু,
আজ সবার চোখে সেই নীরব অশ্রু খেলা করে ...
অথচ তুমি কিছুই দেখে যেতে পারলে না!
তপ্ত দিনের শেষে অর্বাচীন মেঘের আনাগোনা
বদলে দিচ্ছে দিনের কারুকাজ।
অভিমানী চাঁদ গাইছে শোকের গান
হায় বৃষ্টি! হায় আশ্বিনের বৃষ্টি!
কেন এতো অভিশপ্ত দিন বয়ে নিয়ে এলে?
=========================
সুধাংশুরঞ্জন সাহা
৫৭/৬ এ/২ সন্তোষ রায় রোড
শিবম অ্যাপার্টমেন্ট
কলকাতা ৭০০০০৮
0 মন্তব্যসমূহ