E-দুইপাতা পত্রিকা
১১০তম দ্বিতীয় সংখ্যা , ২০২৫
সম্পাদক: নীলোৎপল জানা
G-mail: lokpathduiipatapatrika78@gmail.com
ফুরসত
রীতা পাল
সময়ের সাথে বদলে যায় মানুষের গন্তব্য
শস্য শূন্য মাঠে কুণ্ডলী পাকায় কর্মফল!
গাড়ির গতি বাড়লে পেছনে পড়ে থাকে
সোনালী বালির নদী,
গয়না নৌকো, পদ্মবিল আর ধূসর ডানার
বক ।
জানলা দিয়ে দৃষ্টি ছুঁতে চায় অতীত
- -
তখন ছাতিমের শরীর বেয়ে নেমে আসে অবেলার
রোদ্দুর।
ছায়া আড়াল হলে, গুটি কেটে বেরিয়ে
আসে গুটিপোকা
তার সবটুকু যন্ত্রণা নিয়ে সুর বাঁধে
দোতারায়।
শঙ্খলাগা সন্ধ্যায় দিগন্ত চিরে বেরিয়ে
যায় ট্রেন -
পড়ে থাকে শতাব্দী প্রাচীন সমান্তরাল
রেললাইন আর স্মৃতির গ্রানাইট পাথর।
আসলে প্রতিটা স্টেশনের একটা নিজস্ব
গল্প থাকে।
ক্যানভাস
তোমার পুরো ক্যানভাস জুড়েই আমি
নিপুন তুলির টানে ফুটিয়ে তুলেছ নির্জন
দ্বীপের উষ্ণতা।
পলাতক হরিণীর মতো, ভ্রু-যুগলের মাঝে
বসিয়ে দিয়েছো রক্তকরবীর কুমকুম।
আলুলায়িত কুন্তলে সাজিয়ে দিয়েছো
শ্বেত চম্পা
প্রতিটা গাঢ় ভাঁজে জ্বেলে দিয়েছো
সন্ধ্যা দীপের শিখা।
ক্যানভাসের প্রতিটি ইঞ্চিতে শিল্পীর
দক্ষতা!
যেন এক পাহাড়ি নদীর রূপ কথা
এখানে ডুব সাঁতার দেওয়া যায় না।
শুধুই দেখতে হয় বিবাগী ঢেউয়ের বয়ে
যাওয়া
শুকনো
নদী
হয়তো প্লাবন এসেছিল
শুকনো নদীর বুকে
স্বপ্নগুলো আঁকা ছিল
হারানো পথের বাঁকে।
জলছবি সব রঙ ধুয়েছে
শর্তবিহীন রাতে
কান্নাগুলো নুড়ি পাথর
পুড়ছে রোদের সাথে।
পানকৌড়ি যায় উড়ে যায়
ঐ আকাশের ফাঁকে
শূন্যবুকে তাকিয়ে নদী
কখন সাগর ডাকে।
বাঁধনহীন বর্ষা রাতে
ভরবে নদী আবার
জোনাকির সাথে খুঁজবে পথ
নিজেকে ফিরে পাবার।
কে
জেগে আছো
কে জেগে আছো ?
আকাশে কোজাগরী চাঁদ।
জোছনা ছুঁয়ে আছে ঘুমন্ত চৌকাঠ
নিশিডাকে আগল খোলে আদিবাসী বৌ।
কাল পেঁচাদের উল্লাস
ঠোঁট নখের আঁচড়ে কলঙ্কিত চাঁদ।
বুনো ফুলে মৌ-মাছির মৌতাত
ঝরা কাশফুলে রক্তরাঙা পায়ের ছাপ।
আবার একটা ভোর
পেঁচারা কোঠরে,বেরিয়ে আসে কাঠঠোকরা
সারাদিন খুঁটে খাবে খবর।
নেভা দীপে সলতে খোঁজে সময়
কে জেগে আছো ?
ইচ্ছেনদী
ভেজা আকাশে-
তুমি যখন জল রং হয়ে ঝরে পড়ো,
তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছা করে।
জারুলের ডালে -
ভিজতে থাকা কপোত-কপোতির বন্যপ্রেম দেখি
!
মনের ঘরে বৃষ্টি নামে।
হৃদপিন্ডের অলিগলি -
ঘুরে ইচ্ছেনদীটা ছুটে যায় দিগন্তের
দিকে !
আমার চেনা নদীটা বড্ড অচেনা হয়ে ওঠে।
আজও বুঝি না ও কাকে খোঁজে।
0 মন্তব্যসমূহ