E- দুইপাতা পত্রিকা
১০৫তম সংখ্যা ২০২৫রবীন বসু
১
না-বিষাদ না-আনন্দ জোন
খড়িমাটির দেয়াল ভেদ করে যে হাওয়া
মধ্যদুপুর অতিক্রম করে, তার মুখে
বিষাদ। নিরন্ন গ্রামদেশ—
অভাবের চালে ভাঙাহাঁড়ি
জঠরে ক্ষুধা নিয়ে ঈশ্বর পাটনীও হাঁটে।
ফাঁকামাঠ উন্নয়নের ধ্বজা দ্যাখে
বিপুল বৈভব নিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার
কবি অধোমুখে বসে আছেন
না-বিষাদ না-আনন্দ জোনে l
২
আজীবন কৃতজ্ঞতা
তোমাকে ডাকেনি কেউ
তোমাকে বলেনি কেউ, জলের
অভিমান তির তির বিষাদ ছুঁয়ে
জলফড়িংয়ের মতো ভেসে থাকা
বাউল একতারার সুর ফাঁকা মাঠে!
তাও-তো থেমে থাকা
বুকের গভীরে দোলে মনখারাপ
দূরত্ব মাপার কোন একক এ-সময়
কাজই করে না! যারা চলে গেল
বিস্মৃতি হাতে নিয়ে—কোথাও-তো
রয়ে গেল; কোথাও তো স্পর্শ
লেগে থাকে অনুভবে! আজীবন
কৃতজ্ঞতা হাত ধরে থাকতে চায়!
৩
ফিঙেরোদ শীতঋতু ও বইমেলা
ফিঙেরোদ গাড়িবারান্দায় নিচে
ত্রিভঙ্গ মুরারি
লোকাট দিদিমনি একবার ঘাড় ঘোরান
আর বিদর্ভ নগরের প্রজাপতিরা কোথা
থেকে যেন উড়ে এল শহরের ফুটপাতে
এটুকু লিখে কবি সিগার ধরালেন
গতকাল কবিসম্মেলনে সবাইকে টপকে
আগে পড়ার কৌশলে টিকটিকির টিক টক
বাহুসন্ধি থেকে বিভাজিকার রহস্যগল্প
পরের উপন্যাসের বিষয়!
হাঁ-মুখ বিভায় জিরেন কাটের রস
সামনের শীতঋতু উষ্ণ আলিঙ্গনে
বইমেলার কাঁথা গায়ে দেবে…
৪
বিকল্প শিশির
ধান কেটে চলে গ্যাছে চাষি
ফাঁকা মাঠে কাকতাড়ুয়া লাঠি
কুয়াশা মাখছে শুধু আল
গভীর রাত নিয়ে জেগে থাকছে
আমাদের আটচাল।
বিকল্প শিশির দেখি
সূর্যের প্রেমিকা হতে চায়!
অনন্ত দহনে জ্বলে শতকোটি নক্ষত্র
আকাশ; দুর্নিবার টানে আত্মসুখ
বিজনলালিত এই পরিবেশ—আভূমি
নত আছে সম্পর্কের গোপন চাবিকাঠি।
৫
কবিতা খোলস ছাড়ে
হাত ফসকে অক্ষর যদি বেরিয়ে যায়
তিন আঙুলে মেপে নাও বর্ণমালা ;
কবিতাকাঙ্ক্ষিত স্বর নিম্নে রেখে বল
হে চারণভূমি, তুমি গোষ্ঠবদ্ধ হও—
পাচনবাড়ি হাতে দিগ্বিদিক ছুটছে মহিমা
অক্ষরেরা আজ অপার দাক্ষিণ্য দ্যাখে ।
শীতঘুম ভেঙে ক্ষুধার্ত সাপের মতো
কবিতা লাফিয়ে চলে, আছাড়িপিছাড়ি খায়
খোলস ছাড়ে,তারপর নতুন চেকনাই ধরে
বসন্ত-বাতাসের দিকে ধেয়ে যায়…
======================
রবীন বসু
১৮৯/৯, কসবা রোড, কলকাতা - ৭০০ ০৪২
কমেন্ট ও ফলো করুন।
0 মন্তব্যসমূহ