E- দুইপাতা পত্রিকা
১০৫তম তৃতীয় সংখ্যা, ২০২৫
সম্পাদক: নীলোৎপল জানা
Mail iD: lokpathduiipatapatrika1978@gmail.com
গুচ্ছ কবিতাঅন্তর্দৃষ্টি
গৌতম রায়
অন্তর্দৃষ্টি ফেলি
হাতি আর বাইসন হতে দোষ কী ?
পায়ের চাপে অথবা শুঁড় কিম্বা দাঁতে
তুলে ফেলি ঘাস, ছেঁটে ফেলি ডালপালা,
করে ফেলি জমি, করে ফেলি পথ।
এখানেই বায়ো বিরাম।
সেই পথে আসে বিচিত্র গাছ ফুল,
আসে কীট পতঙ্গ ব্যাঙ সাপ ময়ূর
আসে হরিণ নেকড়ে শেয়াল।
বৈচিত্র্যে ভরে ওঠে পড়োশী জলজঙ্গল।
বায়োবান্ধব দেয় হাততালি।
দাঁড়ের তালে তালে নৌকো ভাসাই,
ইচ্ছে জাগিয়ে তুমিও আগামীর হতে পারো ম্যানগ্রোভ।
––––
সংগ্রহশালার কদর
এখন রোশনাই জ্বালিয়ে বারুদ গন্ধে, ফুসফুস ভরিয়ে তুলতে মন চায় না।
বরং অভুক্ত ছাগলটির জন্য দুব্বা ঘাস আর আমপাতা খুঁজি।
নয়নতারা এনে পুঁতি পথের ধারে ।
বুনোফুল আর শিরিষ পাতা দিয়ে সাজাই দিনের ইজেল।
পরিবেশ হা করে তাকিয়ে থাকে পটলচাষীর দিকে।
বারুদ পৃথিবীর দিকে নয়,
সংগ্রহশালার কদর বাড়ছে দিন দিন।
––––
ততদিন
অনলাইন জামাপ্যান্টের প্যাকেটে ঢেকে যাচ্ছে আমাদের পান্ডুলিপি।
হৃদয় বৃত্তির অক্ষরমালার রোদকে
কার্গো আর বুকপকেট থেকে বের করে,
ছড়িয়ে দিই শিউলি আলোয়।
বোলতার সোনালী শরীর চাকের মোহ ছেড়ে
একদিন উঠে যাবে বনে,
ততদিন রোদের জন্য সেচন করি সময়।
––·–
খোলসা
এ আইয়ের জমানায় ঠকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকেই,
সকাল বিকেল পায়চারি কথা না বললেও
সন্ধ্যে একদিন মুখ খুললো,
জ্বলে উঠলো পথ-আলো।
মুখোমুখি কথোপকথনে খোলসা হলো অন্তর্বৃত্তি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রেড সিগন্যালে জেব্রা ক্রশিং হলাম।
এখন দুজনেই খুঁজছি সমাধান,
বেশ তো-----।
––––
সদর বাতি
আজ বার্মুডার সত্যিই অবকাশ,
ঠ্যাং তুলে পড়ছে পুজো সংখ্যা।
পাড়াপড়শি জানে কোথাও আলো না জ্বললে, শুধু সেই ঘরে নয়,
এ তল্লাটে ঝাঁঝালো পোড়া গন্ধ আসে,
কানে দিতে হয় তুলো।
না হলে সদরে তালা পড়ে।
আজ ওর জন্য সবাই জ্বেলে দিয়েছে সদরবাতি।
–––·–
গৌতম রায়
সুভাষ নগর, আদ্রা
আদ্রা, পুরুলিয়া- ৭২৩১২১
0 মন্তব্যসমূহ