E- দুইপাতা পত্রিকা ১০৮তম তৃতীয় সংখ্যা , ২০২৫ ।। কবি অবশেষ দাস ।। সম্পাদক: নীলোৎপল জানা

 

E- দুইপাতা  ত্রিকা

১০৮তম  তৃতীয় সংখ্যা , ২০২৫

সম্পাদক: নীলোৎপল জানা

                                           G-mail: lokpathduiipatapatrika78@gmail.com


মা

অবশেষ দাস 


 এই পথে ছেলেবেলা হামাগুড়ি দেয়, 

 এই পথে সজনের হাওয়া...

 হেলে যাওয়া মোটা গুঁড়ি জামগাছ

 ও পাড়ার ঠাকুমার মার সহোদরা যেন

 শিরিষ ফুলের মতো সুন্দর ভাইবোন,পাড়া প্রতিবেশী ...


 এই পথে ঘুড়ি ওড়ে, মাঠ কড়াইয়ের ঘ্রাণ  

  রাখালী বাতাস খোলে কবিতার পাতা...

  কিশোরী আঙুল থেকে ঝরে পড়ে আলপনা 

   গোবরের ছোঁয়া লাগা মাটির দাওয়ায়...


   মায়ের স্নানের শাড়ি কাঁচা দুধ রোদ্দুরে ওড়ে,

  আলতায় রেঙে ওঠা মায়ের সজল দুটি পা

   তীর্থের মতো জল ভরা ঘটি হাতে দাঁড়িয়েছে, তুলসী তলায় 

   মা আমার আলো চায়, তারাদের কাছে

   সংসার আলো চায়, মায়ের কাছে


জন্মান্তর 

জীবনের কতটুকু প্রকাশ্যে মাথা নত করে ...

কেনই বা এ জীবন ভালোবাসা চায় 

কেনই বা এ জীবন নদী হতে চায় 


চোখের জলের মতো নিরীহ ভাষায় 

তিস্তার ঢেউয়ে ঢেউয়ে লিখেছি যে চিঠি

স্বস্তি ও আহ্লাদে ছিঁড়ে ফেলে দাও,

কুয়াশার নাভির ভেতর...

মনে হয়, কোত্থাও ভালোবাসা নেই।

তুমিও শূন্য হাতে হাওয়ার মাদুর পেতে আছো।

তোমার জীবন জুড়ে কুয়াশার মেঘ ...

সরালেও দানা বেঁধে যায় !


হেমন্ত ঋতুর মতো ছিপছিপে পথচলা তোমার ও আমার 

তোমার বুকের নিচে বয়ে যাওয়া কেলেঘাই নদী

অস্ফুটে বলে ওঠে, ভালোবাসি কবি 

এ জগৎ শুনতে কি পায়? 

জীবনের কতটুকু প্রকাশ্যে মাথা উঁচু করে 

তোমার জীবন জুড়ে দেবদারু ছায়া শুধু চাই।


হয়তোবা ঘাটশিলা, সুবর্ণরেখার মতো জন্মান্তর...


মরীচিকা 

খয়েরি গালের মতো ফ্রক পরা সন্ধ্যাতারা 

চুম্বনে চুম্বনে ভরে ওঠে বাতাসের ঠোঁট, গোলাপ-হৃদয়

সোমত্ত শৃঙ্গার টিকটিকি,আরশোলা জানে


শরীর তো খেয়াঘাট,উষ্ণতা পারাপার চায়।

জীবনের গাছতলা প্রসন্ন প্রেম পেতে চায়।


মেঘ

মেয়েটির খোলা পিঠের দিকে 

শষ্যের গন্ধে ভরা কার্তিক মাস,ধানখেত 

সিঁদুরে শালুক,রোগা এক পানকৌড়ি 

একমনে তাকিয়ে আছে।

যেভাবে প্রসন্ন কোনো নারীর হৃদয় গান গেয়ে ওঠে 

সন্ধ্যাতারার মতো ভেতরে ভেতরে 


মেয়েটি নূপুর পায়ে বিকেলের আলো দেখছে

বেলা শেষের চড়ুইয়ের শব্দের মতো সুন্দর সে 

তার খোলা চুলে যেন পল্লীর মেঘ লেগে আছে।

ভরা হেমন্ত জুড়ে এ কী অকালবোধন!

অদূরের জলছবি,ছায়াপথ

অনিকেত সন্ধ্যাতারা 

বিকেলের আলোতে লেখা চিঠি  

চর্যার ঘ্রাণে ভরা মাছরাঙা ওড়নাটি 

উড়তেই থাকে ।


বল্লভপুর 

কোপাইয়ের কাছে কতদিন দাঁড়িয়েছি একা একা। 

কখনো ভেতর থেকে একা হইনি। 

এখানে রাত্রি কাটে নিঃসীম রাত্রির স্তব্ধতা গায়ে 

সকালে পাখির ডাকে জীবনের পিয়ানোতে বেজে ওঠে

বল্লভপুর বেজে ওঠে সারাবেলা-সারাক্ষণ 

নিভৃত হৃদয়ে সে বাজতেই থাকে।

পুরাতন মানুষের মতো অজস্র গাছেরাও মোরাম রাস্তা জুড়ে 

প্রশান্তি ছায়া হাতে দাঁড়িয়ে আছে।


 গল্পের আটচালা টুমটুমে চায়ের দোকানে।

 এখানে এখনো যেন আগের মতো বেঁচে আছে বোলপুর, 

রবীন্দ্রনাথ বড়ো ভালো লাগে ফাঁকা ফাঁকা বল্লভপুর।

 এখানে রাত্রি হলে কুমকুমে মন আরো কুমকুমে হয়। 

এখানে সকাল হলে ক্লান্তিরা পায়ে ধরে কাঁদে

 এখানে বিকেল হলে পায়ে পায়ে হেঁটে যায়, শালিক হৃদয়

 গাছেদের কণ্ঠেও গান শোনা যায়। 

গরম খেজুর গুড় বাতাসে ছড়িয়েছে প্রিয় শীতের খবর। 

পাকা পাকা কৎবেল গড়াগড়ি খায় বল্লভপুরে

যেভাবে আমার কুয়াশা কামড় খাওয়া মন লাফ দিয়ে ওঠে,

একমুঠো রোদ্দুর ভালোবাসা পেলে....












একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ