E- দুইপাতা পত্রিকা ১০৭তম তৃতীয় সংখ্যা, ২০২৫।। কবি সাতকর্ণী ঘোষ।। সম্পাদক: নীলোৎপল জানা

 

E- দুইপাতা  ত্রিকা

১০৭তম তৃতীয় সংখ্যা, ২০২৫

সম্পাদক: নীলোৎপল জানা

Mail iD: lokpathduiipatapatrika1978@gmail.com 

গুচ্ছ কবিতা

জ‍্যোৎস্না

সাতকর্ণী ঘোষ


ভেসে যাই দুদিকেই ভেসে যাই

ভেসে যেতে চাই বলেই যাই

এমন লগ্ন আসে যদি

তোমাকে দুইহাতে জড়াই


আকাশ ভাসে স্নিগ্ধ গঙ্গায়

ঢেউ ওঠে ঢেউ ওঠে নর্মদায়

আমি এই মাতলা হলাম 

তুমি তবে পদ্মা ভাসাও


ঘর দেখ ভেঙে আছে

আকাশ আমার ছাদ

তুমি এলে গান হবে

যুদ্ধেরও জেহাদ


মন হয় খারাপ যখন

লাল হয় আকাশ 

কান্নার সুরে  ভাসে শিশুর চোখ

চোখমুছে ভালোবাসা জ‍্যোৎস্না হোক


রোদ


সেই প্রথম চোখ খোলা থেকে
ও আমার সঙ্গে আছে
বিরক্ত দিয়েছে যত তারও বেশি দিয়েছে
যন্ত্রণা...
আমি তাকে ভালোবেসে জীবন বলেছি
তখনই আমাকে সে জড়িয়ে নিয়েছে
ক্ষততাপ অনুতাপ নিমেষে মুছেছে

এই প্রথম তুমি আমাকেই 
আলো বলে ডাকলে
ঘরময় রোদ এনে বিছানা ভেজালে
তবে কেন অন্ধকার শাসায় রোজ
কান্নার জলে বন‍্যা হলে
বালিশের কী দোষ

রোদ ওঠে ঘন হয় ঘনীভূত দুপুর
তোমার চলার ছন্দে মায়াবী নূপুর 
আমাকেও ডেকে নাও অসময় সুর

ভোর

একমুঠো শিউলির মতো ভোর চেয়ে আসছি 

অথচ কী ভাগ‍্য দেখ শুধু স্বপ্ন দেখছি

এতবড়ো শিউলি গাছ শিউলি শুধু ঝরে আর ঝরে

উঠোন রাস্তা বিছিয়ে থাকে অপেক্ষায় 

কখন কার আঙ্গুলের ছোঁয়ায় তার ভোরপ্রাপ্তি হবে

ছড়িয়ে যাবে এ হাতে ও হাতে মালায় গলায়

ঈশ্বরের পায়ে লুটিয়ে পড়বে শরতের আকাশ নিয়ে 


স্বপ্নেরা দল বাঁধতে শিখে গেছে বলে

বিভেদ উঁচিয়ে তোলে যেন তরবারি 

ধারালো অথচ রক্ত ঝরেনা রক্তবমি করে

ভেঙে যায় খানখান আমাদের ভোর

শিশিরে ভেজা ঘাসের কাছে গিয়ে হাত পাতি

সেও দেখি পায়ে পায়ে জড়িয়ে ধরেছে অনাথের মতো

আমি তবে কার কাছে যাই কার কাছে

পাখি ডাকে কিন্তু নেয়না বাসা তার অনিশ্চিত 

ঘুম ডাকে ভয় হয় ঘুমোলেই শিউলির কান্নার শব্দ 

জাগরণে এঁকে রাখতে চাই আমাদের পরম জন্ম

মুঠো খুলে সুবাস যেন পাই নির্লিপ্ত 

যারা ভেঙে দিতে চায় নিতে চায় কেড়ে

তার দোরঘরে অন্ধকার ছেয়ে এলে

রাত যদি চিৎকারে নিস্তব্ধতা ভাঙে

আমাদেরই কাছে পাবে টুকরো স্বপ্ন জুড়ে 

শিউলির মালা গেঁথে দেব


দিন

একটা সময়ের সঙ্গে 

আর একটা সময়ের দেখা করতে নেই

দেখা হলে প্রেম হবে

হতে পারে তুলকালাম


তুমি দিন হলে আলো সব ঝলমলে হবে

অন্ধকার স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হবে

আমাদের ছায়াগুলো আরও দীর্ঘ হবে

ভয়হীন বলতে পারব চলো হাঁটা শুরু করি

যাত্রা এই শুরু হল সময়ের ঘাড়ে চড়ে

দেখ ঠিক পৌঁছে যাব ভালোর দেশে


পাখি আমাদের অভ‍্যর্থনা জানাবে বলে

রাত ভেঙে ফেলেছে সমস্ত আলো তার ডানায়

ওকে ভালোবাসা দিও ও অগ্রদূত হবে

গান হবে সুর হবে পরিস্কার দেখা হবে

ঝকঝকে ভবিষ্যতের অপেক্ষায়


রাত

এখনও বাকি গভীর অসুখ এখন 

পেঁচারা নির্বাক নিশাচর হতাশায় বিবর্ণ 

আমার শরীরে নামছে ঘাম কাম এবং ভয়

কোথা থেকে শুরু করি শেষ বা কোথায় 

জানিনা এই ভূমি অনন্ত অশান্ত রচনার কাছে 

শান্তি ডাকব কী করে এসো প্রজাপতি ভোর 

বাগান দেখছি তরতাজা ভরপুর সুগন্ধমাখা

তবে এখানেই থামা যাক রাত্রি তুমি ফিরে যাও

নদী বড়ো চঞ্চল হয়ে উঠছে আমাকে চায়

ফুল চায় পাখি চায় সুখ চায় প্রেমও চায়

তুমি কেন চাইছ না বলো





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ