E-দুইপাতা পত্রিকা ১১৩তম চতুর্থ সংখ্যা, ২০২৫ ।। কবি মধুমিতা বেতাল ।। সম্পাদক: নীলোৎপল জানা

 E-দুপাতা ত্রিকা

১১৩তম চতুর্থ সংখ্যা, ২০২৫

সম্পাদক: নীলোৎপল জানা

G-mail: lokpathduiipatapatrika78@gmail.com



চিৎকার সমগ্র

মধুমিতা বেতাল

 

তেত্রিশ কোটি বাদ্যযন্ত্র একসাথে পুড়লেও

সুরপোড়া গন্ধ ওঠে না, স্বরলিপিও জ্বলে না।

বরং পোড়া ছাই থেকে পিলপিল করে

হেঁটে যেতে দেখি কয়েক কোটি ত্রিনয়ন,

ঈশ্বরের দরজা বন্ধ থাকলে সে আজ অন্ধ।

 

আমার একজন প্রত্নতাত্ত্বিক লাগবে।

খুঁড়ে দেখুক আমাকে, ছুঁড়ে ফেলেছি

সমস্ত অনুচক্রিকা, ঠাণ্ডা লাগছে ভীষণ।

আর কতটা সময় লাগবে শূন্য হতে?

মেনোপজের পথে কোনো বিপ্লব নেই।

 

দৃশ্যমান শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ডানাকাটা

পাখির মতো ছটফট করতে করতে

শান্ত হয়ে পড়েছে, থেমে গেছে রক্তস্রোত।

একটা ফার্স্ট এড বক্সের ভেতর বন্দি থাক

আমার কণ্ঠ, কথা, কান্না, আর সমস্ত চিৎকার।

 

২.

আর্তনাদের স্বরলিপি

 

খনিজ বলতে শুধুই অভিমান আর অভিযোগ,

এর বাইরে তেমন কিছুই আর খনিত হয় না।

ঝিরি ঝিরি বৃষ্টির মতো কান্না ঝরে পড়লে

এলাচের ফুলের সাথে খেয়ে ফেলি প্লাবন।

সেও এক দূর্বিসহ বিষ ফোঁড়ার টনটনানি--

ঠিক যেন কণ্ঠনালীর একেবারে অগ্রভাগেই

বাসা বেঁধেছে ভীমরুলের কঠিন আর্তনাদ।

এখন মাঝ পথ, আরও পুরোপুরি অর্ধেক

পথ বাকি, কালো ভ্রমরের ডানাতেই আমার

সূর্য ওঠে। বাম বুকে ধিক ধিক করে জ্বলছে

তোমার নাম লেখা উলকি, তবু তোমাতেই

ডুবি আর ডুবি, ভাসি আর তলিয়ে যাই।

 

কোথাও কিছু ভুলে এসেছি, বিপুল শতর্কতাতেও

আজ আমি নিঃস্ব। কে বলে ছিল এত ডাকতে!

 

৩.

বলা হলো না কিছুই

 

আমার আকাশে চাঁদ নেই বলে

তোমার আকাশ অন্ধকারে থাকবে

এমনটা কোনো পুঁথিতেই লেখা নেই,

তাই ধ্যানস্থ শরীর বেয়ে ঘুরে বেড়ায় এক

আদি ও অনাদির আশ্চর্য দূরত্ব-বোধ।

আরও একটু দূরে গেলে অন্ধত্ব বাড়ে

নিজের বুকের দিকে অস্ত্র তাক করে

তোমার চোখে নিশানা খুঁজি মৃত্যুর।

 

সৌন্দর্যের শৌখিনতা তেমনই স্থির,

জীবন অনন্ত আলুলায়িত অস্থির বলে

তেমন করে কিছুই বলা হলো না

বলার বাকি রয়ে গেল অনেক কিছুই !

অন্ধকার পথে তারার আলো ছুঁয়ে

যেটুকু হেঁটেছি তোমারই হাত ধরে,

সে যেন মেঘলা রাতের বিজলী ঝলক।

 

৪.

মাধুকরী

 

তুলশী তলায় তেতাল্লিশ বসন্ত প্রদীপ জ্বালিয়েও

নিজেকে গুম করে রাখি ঘুমের মতো নির্ভয় দেশে,

ঠিক ব্যক্তবীজী ফলের মতো ঝুলে থেকে বাঁচা।

মাঝে মাঝে পাখি হয়ে মাঝ সমুদ্র ঘুরে আসি

অদৃশ্য নৌকার মাস্তুল ধরে, শুধু নীল হব বলে।

সারা অঙ্গে জড়িয়ে রাখি ইষ্টনাম, তবুও গায়ে

বসে থাকে ঘুটঘুটে অন্ধকার, কোনো এক ফাঁকে

জোনাকিও কামড়ে যায় এক পেট আগুন নিয়ে।

রূপকথার গল্প বলতে বলতে আমি ভুলে যাই

কার জন্য রাত্রি জাগি, তুলসীতলার ওপারে

কেউ নেই, শুধু বাতাসে দপ্ দপ্ করে প্রদীপ।

 

তেতাল্লিশ বসন্তের মাধুকরী-আঁচল আজও ওড়ে।

 

৫.

ধোয়া পথটি

 

চাঁদ পোড়া গন্ধে ডুবে থাক

চোখের চোরা তাপ।

আকাশ নেমে এলে একদিন মাটি হব।

বাতাসে শুকিয়ে নেব ঘাম।

জমির আলে লুকিয়ে থাকা পদধ্বনির

মতোই তোমাকে শুনি, বুঝি, আর

আলেয়ার ছায়া ধরে হাঁটি।

বৃষ্টির মতো ধুয়ে রাখি পথ,

আবছা পায়ের ছাপ।

 

সীমান্তে বজ্র বিছানো এখন...

বসন্ত আর নেই।

শেষ কুঁড়িটি জানে মালির কতটা সে

আর কতটা অলির প্রাণ।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ