E-দুইপাতা পত্রিকা
১১৩তম তৃতীয় সংখ্যা, ২০২৫
সম্পাদক: নীলোৎপল জানা
G-mail: lokpathduiipatapatrika78@gmail.com
নিরুঙ্কুশ নৈঃশব্দ্য
চায়না খাতুন
বছরের পর বছর বিষাদের চিলেকোঠা
থেকে দেখেছি নিরঙ্কুশ নৈঃশব্দ্য
দেখেছি তেপান্তরের মাঠে উড়ে যাওয়া
এক চিলতে ঘুড়ি
সাপের ফনার মতো রাতের ছোবল
ঘুমের মধ্যে একটা ক্ষণস্থায়ী মেঘছায়া
ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির জল
আর স্বপ্নের পাপড়িগুলো কৃশের মতো!
কার্নিশের ভাঁজে সমুদ্রের ঢেউ দেখতে
গিয়ে নৌকায় পাল তুলেছিলাম
সেখানেও অপ্রত্যাশিত সাইনবোর্ড
আমার গৌরবান্বিত হৃদয় সেখানে পৌঁছাতে
পারেনি
সূর্যের থেকে বয়সে আমি কতোটা ছোট সে হিসেব করতে
গিয়ে দেখি সর্বব্যাপী শূন্যতা।
২.
উনুনের পাশে নিম চারা
ত্রিকোণ উঠোনে আমার মায়ের হাতে
তৈরি উনুনটায় এখন শ্যাওলার আস্তরণ
পাশেই জমানো কাঠকয়লার ছাই
বৃষ্টির জলে কিছুটা ধুয়েছে কিছুটা
মাটির সাথে মিশে গেছে
ওখানেই জন্ম নিয়েছে একটা নিম চারা!
মা যেদিন তারা হয়ে গেল
আকাশ ময়দানে মায়ের পাশে ঠিক ওরকমই
একটা নিমচারা দেখেছিলাম
চারাটা অস্থির উদ্বেগে আমার দিকে
তাকিয়ে ছিল আমার অস্তিত্বের সাথে মিশে থাকা
চোখের ভাষা স্থির
আর
বাতাসে ছড়িয়ে ছিল মায়ের গায়ের
সেই অদ্ভুত পাঁশুটে গন্ধটা
যেটা এখন উনুনের পাশে নিম চারার
পাতা থেকে পাই!
৩.
একনায়কতান্ত্রিক উল্লাস
কেটে যাচ্ছে সময়
আগুনের মধ্য দিয়ে পথ হাঁটছে আয়না
পৃথিবীতে এখন অমরত্বের লড়াই
একনায়কতান্ত্রিক উল্লাস,
আমার পাশেই রয়েছে সারিবদ্ধ কবর
প্রতিটি মুহূর্ত কৃষ্ণবিন্দুর মতো
কি বলে সম্বোধন করবো মানুষকে!
চারিদিকে যা সব কাণ্ড চলছে-
পৃথিবী, তুমি যা দিয়েছিলে তা ফিরিয়ে
নাও
অকারণে কষ্ট বিছানো বোঝা নিয়ে
বেঁচে থাকা ঘাতকের মতো
এরকম জীবনের প্রকৃত অর্থ কি আমি
তা বুঝি না!
৪.
আমার শিল্পী সত্তায় শৃঙ্খল
আমি রং ভালোবাসি
তাই আমার শিল্পী সত্তায় পড়ানো
হয়েছে শৃঙ্খল
স্বাধীনতা লাভের পরেই অভিযুক্ত
হই
অপরাধী সন্ত্রাসী,
আমার বেঁচে থাকায় অজস্র বাধা
তবুও নির্ভীক আমি
বঞ্চিত বেদনায় আঁধার রাতে আমার
তুলি জীবন আঁকে
কালো রং মানুষের,
হায়নার মুখ ওত পাতে
আমাদের বেঁচে থাকা নিয়ে গল্পের
ছবি আঁকে
বেঁচে ওঠে যতোসব মরা গল্প
ওরা কেনে পুরস্কার,
আমি বিশ্বাস করি, ভালোবাসি মানুষের
কালো রং!
0 মন্তব্যসমূহ