E-দুইপাতা পত্রিকা ১১৩তম পঞ্চম সংখ্যা, ২০২৫।। কবি তু ল সী দা স মা ই তি ।। সম্পাদক: নীলোৎপল জানা

 E-দুপাতা ত্রিকা

১১৩তম পঞ্চম সংখ্যা, ২০২৫

সম্পাদক: নীলোৎপল জানা

G-mail: lokpathduiipatapatrika78@gmail.com


কবি সমীপেষু

তু ল সী দা স  মা ই তি

(‘যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু’- রবীন্দ্রনাথ)

 

পৃথিবী সব সময়ের জন্যই নিষ্পাপ।

অমৃত ধারণ করেই সে ধরিত্রী।

পশু-পাখি- বৃক্ষ-পাহাড় -কেউ কি বিষ নিয়ে জন্মেছে?

ছলাৎছল নদীও তো অমলিন বয়ে যায়।

 

তার মধ্যেই কারা যেন গরল সঞ্চয় করে ধনী।

পাপের ধুলো বহন করতে চেয়ে শিখেছে দাঁত নখের বক্র ব্যবহার। রাত্রিচর পশুদের মতো।

 

অযুত বছরের আকাশে কেনো বিষ! লোভের অন্তরাল!

নিরন্তর বইছে যে জলধারা তার অন্তরে কেনোই বা নীল  শৈবাল!

তবে কি চলার মধ্যে আসা-যাওয়া করে নিরাকার ভুল? আর অসম্পূর্ণ সুখের উল্লাস?

 

কবি! অনিবার্য আলোয় সব ধুইয়ে দাও! সহজ  করে দাও মানুষের জীবন।

আমাদের আরো স্পষ্ট করো। সুন্দর করো।

২.

ঘরছুট

ঘরছুট বধূটি পালিয়েছে তিনদিন হল।

 

সংসারে ভাদ্র। কিছুকাল আগেই বৃষ্টি পেরিয়ে উর্বর হয়েছে মাটি।

তবুও নিঃসঙ্গ চুল্লিতে শুধুই জল সেদ্ধ হয়। টগবগ করে ওঠে হৃৎ-ভূমি। 

এই টানাপোড়েন ফেলে বধূ  সুখ অভিলাষী।

 

সেতো অন্তত বসন্ত চায় ।

 

৩.

মায়াবৃক্ষ

হঠাৎ করে এক মায়া-বৃক্ষ জন্ম নিয়েছে আমার মাথার পাশে ।

কাজের মধ্যে অবিরাম সে গুণ গুণ করে শুনিয়ে যায় অযুত স্বপ্নের কথা।

তার সঙ্গেই কেটে যায় আমার সকাল-সন্ধ্যা। 

এখন মায়া আর আমি।

এভাবেই সে বাসা বেঁধেছে ভাবনার ভেতর।

 

সবই কি মরীচিকা! হে জীবন আমায় পথ দেখাও!

 

৪.

মহাকাল

কালো মায়ের পায়ের তলায় নির্বিকার পিতৃদেব ধারণ করে আছেন মহাকালকে।

 

নীলকন্ঠ পুরুষ শুষে নিচ্ছেন নীল পৃথিবীর বিষ।

 

আমাদের ঘরে এমন দৃশ্যের ভেতর গড়ে উঠছে যে বিস্তীর্ণ মায়া, সেখানে এত আঁধার কেনো? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সসাগরা পৃথিবীর দিকে তাকাই।

অবিরাম ঘুরে চলি আঁধার পেরিয়ে অনন্তর দিকে। ছায়াপথ পেরিয়ে অজস্র প্রদীপ। তাদের আলোয় স্নান করতে করতে বলতে থাকি- 'তমসো মা জ্যোতির্গময়।'

 

মালাতে ঝোলানো মুণ্ডগুলি ফুলের মত হাসলে কাল ঘুমিয়ে যায় মহাকালের অতল ঘুমে।

 

আলো- আঁধারি ঘরে এভাবে আমরাও অমর হয়ে উঠি।

 

৫.

শয্যাবিলাস

(‘শীতকাল কবে আসবে সুপর্ণা‘ - ভাস্কর চক্রবর্তী)

 আমার শরীরে কেউ ব্যাঙের রক্ত ঢুকিয়ে দেয় নি। তাই

আমি ঘুম নয়, এই শীতের দিনগুলিতে শয্যাকাতুরে হয়ে যাই।

 

সুপর্ণা, ওই প্রত্ন চাদরটা শয্যার পাশে রেখে দাও। ওতে

ইউনিভার্সিটির গন্ধ লেগে আছে। 

ঘুম ভাঙানিয়া সুরে তারাবাগের চন্দ্রস্নান, কাঞ্চননগরের বিষন্ন বিকেল - এসব প্রাচীন গল্পই তো ঘুমের সংলেপ।

 

শ্রীনিকেতনের পথে খেজুরের পাটালি নিয়ে পথ হেঁটেছিল  যে বৃদ্ধটি তার কি মনে আছে আমাদের প্রথম শীতকাল!

ভাঙাচোরা রিকশোর ছই তুলে হাওয়া আটকানোর অছিলায় সুখ-জাগানিয়া স্পর্শ।

সেই সংকেতময় জীবন পেরিয়েই এই স্থির জানালা।

 

সুপর্ণা, নুইয়ে পড়া কনকচাঁপার গাছ থেকে তোলা ফুলটি হারিয়ে ফেলো না। 

হারিয়ে ফেলো না নীল-খামের সেই অক্ষরগুলি। যা আমার শীতের শয্যার সাথে বেঁধে নিয়েছ সুদীর্ঘকাল।

 

সুপর্ণা, এই শীতে আমি ঘুম বিলাসী নই। আমি শয্যাবিলাসী হতে চাই।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ