E-দুইপাতা পত্রিকা
১১৪তম প্রথম সংখ্যা, ২০২৫
সম্পাদক: নীলোৎপল জানা
G-mail: lokpathduiipatapatrika78@gmail.com
বাক্সবন্দী ছবি
কেতকীপ্রসাদ রায়
...তারপর সারারাত উঠোন ভর্তি জ্যোৎস্না
ঝরে পড়লে,
গভীর নিমগ্নে স্নান করি দক্ষ কারিগরের
মতো;
তীব্র খরস্রোতের মতো ভেসে যাই মোহনার
দিকে।
আরও কিছুক্ষন প্রচ্ছদ আঁকি নিপুন
ভাস্কর্যে,
অবশেষে চাঁদ ভাঙা জোৎস্নায় শেষ
তুলির টান দিই বিষণ্ণ ভোরে;
এইসব ফ্রেমে বাঁধানো স্বপ্নসুখ
বাক্সবন্দী করি অবলীলাক্রমে।
মেঘেরা চঞ্চল হলে গাছেদের ঘুম ভেঙ্গে
যায়,
গাছেরাও দু'হাত তুলে বৃষ্টিকে অভিবাদন
জানায়,
গাছেরা বৃষ্টিপাতে শরীর ধুয়ে সজীব
হয়ে ওঠে।
আহা...এতো আনন্দ, এতো সুখ!
অতঃপর সন্ত্রাসী শরীর থেকে মৃগনাভীর
সুভাষ ছড়ায়।
আমি আরও আরও প্রচ্ছদ আঁকি;
অসংখ্য প্রচ্ছদ এঁকে পিকাসো-যামিনী
রায় হতে চাই।
২.
মোহন বাঁশির ডাক
ভাঙা শরীরে দাঁড়িয়ে আছে গরানহাটার
মুখে
বাবু বাজারের জতুগৃহে আগুন জ্বালে
বুকে ।
সে পথে যায় দুঃসাহসিক ফেরে না
আর গেলে
ফেরার কথা নয় তবুও কেউ কেউ যায়
চলে ।
ডুব দিতে যায় ভাঁটার টানে ঘোলা
নদীর জলে
সর্বনাশী মিষ্টিভাষী বোহেমিয়ান
জীবনে দেয় ঠেলে ।
নিপাত গেছে অসংখ্য বাড়ি নদীর ভাঙন
খাদে
তবুও ডাকে গুহার মুখে বাড়ি ভাঙার
ফাঁদে ।
মধ্যরাতে নষ্ট শরীর ন্যুব্জে পড়ে
ভাঙা নদীর ঘাটে
মোহন বাঁশির ছেনালি সুর গভীর খাদে
ডাকে ।
মন চাইছে যাও, ডুবলে হবে বৃথাই
এই মরণ-বাঁচা
নদীর বুকে বিছানো লখিন্দরের বাসর
ঘরের খাঁচা।
৩.
বেইমান সময়ের পদাবলি
সমস্ত প্রতিবন্ধকতার ভিতরেও প্রয়োজন ছিল একটু সহানুভূতির
স্পর্শ।
দৈন্য সময়গুলো পোশাকের কোণায় কোণায় গাঁথা আছে
ব্যর্থতার উৎস।
অবিশ্রান্ত প্রখর ঝর্ণার স্রোতে
মিশে গেছে সু-সময়
গ্রীষ্মের তপ্ত উষ্ণতায় পারদের
মাত্রা বেড়েছে বুকে
বালিশ ভিজেছে অহর্নিশি নির্জনে...নিঃশব্দে
খসে পড়া বীজের কান্নার মত নির্বিকারের
ধরেছি রাত্রির হাত।
ঐতিহ্যের পরম্পরার স্বাধীন পতাকায়
ছিল শৌর্য,
মুকুটে লাগানো ছিল স্বর্ণাজ্বল
অহংকারী পালক,
শান দেওয়া শরীর ছিল ইস্পাত কঠিন।
আমাদের স্বর্ণযুগের ইতিহাস ছিল
নানাবিধ ভাস্কর্য খচিত।
আবার সেই জ্বালালে প্রদীপ, তবে
বড্ড দেরি করে-
নবমীর নিশি যাপনে গ্রাস করেছে পৃথিবীর
সর্বশ্রেষ্ঠ সুখ।
এখন আমাদের যা কিছু সব বেইমান সময়ের
পদাবলী-
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুখানুভূতি গুলো
খেয়ে নিয়েছে মধ্যপদলোপী কর্মধারা।
-------------00-----------------00---------------
কেতকীপ্রসাদ রায়
ইউ-৬, ক্লাস্টার-১১, পূর্বাচল,
ব্লক- জিএ,
সল্টলেক, কলকাতা -৯৭
ইমেল : kproy2000@gmail.com

0 মন্তব্যসমূহ