E-দুইপাতা পত্রিকা ১১২তম চতুর্থ সংখ্যা, ২০২৫ ।। কবি শ্রাবণী বসু।। সম্পাদক: নীলোৎপল জানা

 E-দুপাতা ত্রিকা

১১২তম চতুর্থ সংখ্যা, ২০২৫

সম্পাদক: নীলোৎপল জানা

G-mail: lokpathduiipatapatrika78@gmail.com


দাতার প্রতি

শ্রাবণী বসু

আমাকে ভিজিয়ে দিয়ে সে চলে গেলো,

চোখের কাজলে সেই থেকে জমা হচ্ছে

মেঘনদী, বিদ্যুৎ ঢেউ, বৃষ্টি নৌকো।

 

আমাকে দাঁড় করিয়ে রেখে সে চলে গেলো

শাড়ির আঁচলে বেঁধে দিয়ে গেলো

রোদ-শালিখ, আলো চড়াই, ধূপছায়া মৌমাছি।

 

আমার শূন্য কলসি ছিল।  দয়া ভিক্ষা দিয়েছে সে,

দুমুঠো সুখ রাঁধতে রাঁধতে তার কথা ভাবি,

অশ্রুর নৌকা বাইতে বাইতে তার কথা  ভাবি,

এমনকী মহাপ্রস্থানের পথেও তাকেই দেখার ইচ্ছে রাখি।

 

(আলোচনা

     শ্রাবণী বসুর এই কবিতা প্রেমের গভীরতা ও অনুভূতির প্রকাশ। কবিতায় প্রেমিকার প্রিয়জনের বিদায় ও তার স্মৃতি ফুটে উঠেছে। প্রথমে প্রেমিকের অনুভূতি প্রকাশ পায়, যেখানে তিনি প্রেমিকার বিদায় ও তার স্মৃতি নিয়ে ভাবেন। জল, আকাশ, বৃষ্টি, ও নদীর imagery প্রেমের অমোঘতা ও গভীরতা বোঝায়। প্রেমিকার বিদায় তাকে শূন্য কলসির মতো করে দেয়, যেখানে দয়া ও সুখের স্মৃতি ভরা। কবিতায় প্রেমের অঙ্গীকার ও গভীর আবেগের প্রকাশ রয়েছে, যা প্রেমের অমোঘতা ও স্মৃতির শক্তিকে তুলে ধরে। এই কবিতা প্রেমের জটিলতা ও অনুভূতির গভীরতা বোঝায়, যা পাঠককে প্রেমের বিভিন্ন দিকের সঙ্গে পরিচয় করায়।)

 ২.

দ্বন্দ্ব

 দুবেলা  দু মুঠো  করে নির্মোহ রাঁধি, বাড়ি,

মোহের ঘরে চৌকিদার বলে, 'খবরদার '

বৈভবের বাজারে তোকে থাকতে হবে,

ডালে ঝোলে অম্বলে মাখামাখি জীবনের উৎসবে

তোকে থাকতে হবে, থাকতেই হবে।

 

যতো বলি, ছেড়ে দাও,আমাকে বহুদূর যেতে হবে,

পাকা বাঁশের লাঠি লেঠেলের মতো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বলে,

কোথাও যাবিনা, ভোগের স্বর্গে, ওরে মূর্খ, ত্যাগী হবিনা,

 

একজন বাউল উদ্ধার করল।

আমাকে দীক্ষা দিল সে।

মোহ মুক্তির মন্ত্র দিলো কানে কানে

 ৩.

অন্ধকার পৃথিবী

 

সংবাদমাধ্যমে চোখ রাখলেই অন্ধকারের খবর পাই,

বলোতো আলোর খবর কে আনবে?

 

প্রতিটা মুহূর্তে  মানুষের ঘৃণ্য আচরণ দেখে শুনে মন খারাপ হয়,

মনে হয়, এ কোন যজ্ঞ দেখার জন্য আমাকে ডেকে এনেছো?

 

যেদিন প্রথম এসেছিলাম, ঠাকুমা কানে কানে বলেছিল -

আলোর পৃথিবীটা তোর হোক, তুই হ আমাদের সুখ,

 

ঠাকুমা কি স্তোক বাক্যে ভুলিয়েছিল?

ঠাকুমা কি জানতো, সূর্যটা নিভে যাবার আগেই

পৃথিবীর সব আলো নিভে যাবে!

 ৪.

ধ্বংসের ঈশ্বর

 

তুমি কি জেনেছো,সারমেয়দের  মুখে অন্ন তুলে দেওয়া অপরাধ?

হ্যাঁ, এরা সেই তাদেরই বংশের,এদেরই অগ্রজ কেউ  হবে যে -

যুধিষ্ঠিরকে স্বর্গের পথ দেখিয়েছিল,

 

আজ এদের  ভাত রেঁধে খাওয়ানোর সাজা - মৃত্যু।

 

সময়ের ফেরে সত্যের চেহারাও কি পাল্টে যায়, জানিনা

 

শিক্ষিত মানুষ, হ্যাঁ, হ্যাঁ,তথাকথিত সভ্য মানুষ

প্রাণীর পাশে দাঁড়ানো নিষিদ্ধ করেছে,

 

মানুষের নতুন আইনে মানুষই পৃথিবীর ঈশ্বর,

সৃষ্টির পর ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে,

একদিন সময় করে এসে দেখে যেও।

 ৫.

নতুন পৃথিবী

 

ইচ্ছে করে রামধনুর সব কটা রং দিয়ে

আগামী পৃথিবীর মুখখানা আঁকি,

মনে হয়, একদম আলাদা একটা ভুবন -

আলোর চেয়েও আলোকময় মুখ,

করবীর মতো টুকটুকে ঠোঁট,

সাঁঝের সরোবরের মতো টলটলে চোখ,

রাতের তারার মতো উজ্জ্বল টিপ,

কপালের ঠিক মাঝখানে, অবিকল

জন্মদাত্রী মায়ের মতো নরম, কোমল।

 ==============================

মঙ্গলজ্যোতি এপার্টমেন্ট

হলদিয়া,পূর্ব মেদিনীপুর

 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ