E-দুইপাতা পত্রিকা
১১১তম তৃতীয় সংখ্যা, ২০২৫
সম্পাদক: নীলোৎপল জানা
G-mail: lokpathduiipatapatrika78@gmail.com
মিতা দাসপুরকায়স্থ
উতলা মেঘ আছড়ে পড়তে চায়
শীতশুষ্ক মাটির বুকে,
মাটিই তার চরম মুহূর্ত বিভূতিতে
উদাত্ত গুঞ্জরিত সুখে।
প্রেম ফুলতোলা সাজের বজরায়
রঙিন নকশার চৌহদ্দিতে,
নক্ষত্র অভিসারে চাঁদনী ছোঁয়ায়
রাতপাখির তন্দ্রা দুলুনীতে।
পাখিদের কলতানে হঠাৎই বিপ্লবের
নেশা
এডালে ওডালে নয়তো জটায়ুকাল,
উড়ে ফুঁড়ে আসে অভিমান জটাধারী
অতীতচারণ নয় তো একাল।
আজকাল সম্পর্কের সমীকরণ মাঘবৃষ্টির
মত
এসেই ফুরিয়ে শূন্যতায় পালায়,
পিপাসু মাটির তীব্র আকাঙ্ক্ষা অপাপবিদ্ধ
ঝলসানো ত্বকের খসখসে ফাঁকও চমকায়।
২.
আলোড়ন
নীরবতার ভিতরে আলোড়ন— কত কথা,
কেউ শুনে না, তবু শব্দেরা বাঁচে।
চোখের কোণে জমে থাকা চিকচিক আর্দ্রতা
উপকূলীয় বালির মতো
বলে— প্রেম বা ভক্তির শিহরণ ঠিক
কতটা।
নোনা বাতাসে ভাসে অদৃশ্য প্রতিশোধস্পৃহা,
ফোঁপায়, গোঙায়, সুযোগ খোঁজে।
রাতের শহর বোঝে সেসব গন্ধ
নিয়নবাতির আলোয় কাঁপা ছায়া
জানে— একলা মানুষ কত নির্ভীক শক্ত।
পুরুষসঙ্গীহীনা নারীকে
স্বীকৃতি বা সম্মান দিতে সমাবেশের
অপারগতা,
ভাই, স্বামী, পুত্র কিংবা পিতা—
মানুষ হোক অথবা অমানুষ—
বেকার, মাতাল, নেশাখোর—
চেহারায় পুরুষ হলেই জোর।
পুরুষ ছাড়া নারী অবিশ্বাস্য,
আজও— কলঙ্কিনী, অক্ষম, অযোগ্য।
তবু ভোর আসে নারীর ঘরে— একলা
সূর্যের হাসিতে খুলে যায় জানালা।
নতুন দিনের আলোয় আবার একই
ভাবনা, দ্যুতি ছড়ানোর শপথ নিই।
৩.
অগ্রহায়ণ
হেমন্ত নামে সবুজের শরীরে,
ধানের গায়ে ধীরে ধীরে পাক ধরে—
সোনালি রঙে ঘোষণা হয়
নীরব উল্লাস, পরিশ্রমের সংগীত।
সড়কজুড়ে চলে বাঁশি–সানাই,
মঙ্গলশব্দে পাখিরা দিক ভুলে উড়ে
যায়—
মনে হয়, সুখেরও আছে
এক আলাদা দিগন্ত।
কাস্তের ধার চকচক করে সূর্যপ্রেমে—
লোহা আর শ্রমের কাহিনি
হাতের তালুতে জমে ওঠে রেখাচিত্র
হয়ে,
নরম আঙুলও যেখানে
সময়ের দাগ খোদাই হয়ে থাকে।
হেমন্ত নামে মাঠের বুক জুড়ে
ধানের শীষে সোনালি আলো দোলে—
পরিশ্রমের পাথর ঘষে ওঠা আগুন
কাস্তে ঝলসায় নীরব অথচ দীপ্তিময়তায়।
বাজারে জমে ওঠে শীতের রঙিন বিস্ময়—
ফুলকপির গায়ে সাদা তুলো মেঘ
আকাশ যেন হাত বাড়িয়ে
থোকা থোকা মেঘ নামায় ঝুড়িতে।
বাঁধাকপিটা নারীর পরিপাটি খোঁপার
মতো—
পাতার ভাঁজে লুকিয়ে থাকে সময়ের
নিঃশব্দ ঘোষণা।
প্রশ্ন শুধু জিভের নয়— আগুনেরও—
স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, না কাচের
চুলো?
ইন্ডাকশন, এয়ারফ্রায়ার, না মাইক্রোওভেন?
আগুন তার পছন্দ বদলাতেই থাকে।
কাছে–দূরে বাজে সানাই—
অতীত আর বর্তমানের মাঝখানে
একটানা নরম সুরে,
বিয়েবাড়ির মতো উৎসব আর অপেক্ষা
একসাথে দুলে ওঠে
অগ্রহায়ণের বাতাসে।
0 মন্তব্যসমূহ