E-দুপাতা ত্রিকা

১১৭তম দ্বিতীয় সংখ্যা, ২০২৬

সম্পাদক: নীলোৎপল জানাক

G-mail: lokpathduiipatapatrika78@gmail.com 

=====================

মহুয়া ব্যানার্জীর গুচ্ছ কবিতা

১.

ডিভাইডার

 

আসতেই পারো, বারণ নেই তো কোনো!

দ্বিধার চাদর উড়িয়ে দিলে ক্ষতি কতটুকু?

পোশাক নিয়ে ভাবনা কেন?

নিরলঙ্কার অগোছালো হয়ে থাকলে তোমার পরিপূর্ণ সৌন্দর্য্য আলোর মত ফুটে ওঠে,

জেনেও না জানার ভান কেন করো?

আমিও এগোই এক'পা দু'পা করে,

দমকা হাওয়ায় শার্টের বোতাম খোলা

চুল এলোমেলো আমারই মত!

ধুলোর ঝড় উঠল আকাশ কালো করে।

চারপাশে  উথালপাথাল মুহূর্তরা ভীড় জমাচ্ছে,

মুখোমুখি আজ কতদিন পর!

মধ্যবর্তী ডিভাইডারে রক্তকরবী ফুটেছে অজস্র!

২.

চোখ

 

তাকিয়ে আছি দিগন্তরেখা ধরে

ভালোবাসার ফুল ফোটা দেখব বলে।

অথচ দেখি অন্ধকার ঘিরেছে সময় ...

সুখের পোস্ট দৃশ্যমান প্রকট ভাবেই

মৃত্যু মিছিলে ধর্ষণের খবর লেখা হয়...

 সংবাদপত্রের পাতা জুড়ে বিজ্ঞাপনী রঙ

দেখে ভীষন খুশি জনগন!

ছোট্ট ঘটনাসমূহ চোখে পড়ে না তাই!

ধর্মাধর্ম বোধহীন প্রত্যেকেই সোচ্চারে

ধর্মের কলকাঠি নাড়ে,

যদিও সবই ব্যবসায়িক তবুও, গদির লোভে

মাছির মত ভনভন ভনভন...

এ মহাভারতে গান্ধারী জন্মের শেষ নেই…

বাস্তবে চক্ষুষ্মান প্রত্যেকেই নিবিড় ভাবে অন্ধ!

৩.

 সম্রাটের আবেদন পত্র

 

ক্ষতি কী একটু ভালোবাসলে?

না হয় তুমি অন্য ঘরেতে থাকো,

না হয় তুমি অন্যের ঘরে গুছিয়ে দাও, আদর করো তাকেই।

তার সুখেই নিজের সব আনন্দ খুঁজে পাও!

তবুও, কখনও কি অবাধ্য হতে ইচ্ছে করে না?

কখনও মনে হয় না , যে তোমাকে প্রতিদিন

চোরা চোখে দেখে খুব খুশি হয়

তার জন্য একটু আলগা হাসি ফুটিয়ে তুলি

এই পেলব  ঠোঁটের শ্রীভূমিতে-

জানই তো আমি আজন্ম ভিক্ষুক, অথচ

তোমার একটু দয়া পেলেই নিজেকে সম্রাট মনে হয়।

আমার কল্পনায় তখন তুমি আমার সম্রাজ্ঞী হয়ে ওঠো।

আটপৌরে এই জীবনের খাঁচা ভেঙে

একদিনও কি সত্যিকারের সম্রাজ্ঞী হয়ে উঠতে

ইচ্ছে করে না তোমার বলো?