E-দুইপাতা পত্রিকা
১১৬তম পঞ্চম সংখ্যা, ২০২৬
সম্পাদক: নীলোৎপল জানা
G-mail: lokpathduiipatapatrika78@gmail.com
===================
দুঃখানন্দ মণ্ডল এর ৩টি কবিতা
১.
ভৌগোলিক সীমারেখা ৩
তুমি বলো; এ সময় উদীয়মান সূর্য আলোর মতো।
ব্রাহ্মনী নদীর ওপারে এখনো চাঁদ উঠেনি
আমার ঘরে ফেরার পথ এখনো অনেক বাকি…
তুমি খবর রাখোনি বলেই চাঁদের গায়ে এতো কলঙ্ক
তুমি খবর রাখোনি বলেই আলোর কাছে রেখেছি সময়…
২.
ভৌগোলিক সীমারেখা ৩৬
মনের মধ্যে জমিয়ে রাখা মনের কথা বলেছিলাম।
আমার থেকে চাঁদ আলোকবর্ষ দূরে,
তোমার সাথে দূরত্ব কেবল ভৌগোলিক সীমারেখার।
তুমি হেসেছিলে। তুমি পূর্ণিমার চাঁদের আলোর কথা বলেছিলে।
জিজ্ঞেস করেছিলে; চাঁদের আলো দেখেছো?
আমার ঘরে চাঁদের আলো আসেনি কোনোদিন।
কেবল চাঁদ মুখ অনুভব করেছিলাম
গতরাতে জেগে থাকা চোখ দেখেছে চাঁদের আলো, অনুভব করেছে তোমাকে।
একটা সময়ের পর প্রেমের কথা মানায় না জীবনযাপনে
আসলে সময় বড্ড চতুর। এরমাঝে বেড়ে চলে বয়স।
সন্ধিক্ষণের হাত ধরার কথা ছিল যেদিন সেদিন বিপ্লব আসেনি। অথচ বলা
হয়নি বলা কথা!
তারপর অনেকগুলি অগ্রহায়ণের
বিকেল পেরিয়ে গেছে
অপেক্ষারা অপেক্ষা করতে গিয়ে তোমার চোখে প্রেমের আলাপন খুঁজছে
যেমন করে পূর্ণিমা চাঁদ পৃথিবীর সৌন্দর্যকে দেখে তার ছায়াবৃত্তের
মধ্যে।
৩.
ভৌগোলিক সীমারেখা ৩৭
চোখে মেলে তাকিয়ে দেখি কুয়াশায় ঢেকেছে জানালা
তার গলায় সুরে কানে আসে, কুয়াশা ঢেকেছে তার রূপ
জানালার এক প্রান্তে আমার প্রিয় পাখিটি কুয়াশা মাখে
আমি কেবলই তাকে অনুভব করি আমার অনুভূতি দিয়ে
যেমন করে সেদিন মেয়েটিকে প্রেমের গল্প শুনিয়ে ছিলাম
তেমনিভাবেই বসন্ত বৌয়ের ডাক শুনছি সকালের ঘুম চোখে।
একলা থাকা ঘরের পাতাবাহারি গাছটি কুয়াশাকে ছুঁতে চায়
যেমন করে তুমি প্রথম আমার উষ্ণতা অনুভব করেছিলে
আর এক শীতের সকালে। আমি অনুভূতি নিয়ে বেঁচে থাকি
ভৌগোলিক সীমারেখা পেরিয়ে আমার একলা থাকা ঘরে।
জানালার এক প্রান্তে পাখিটি আর এক প্রান্তে পাতাবাহারের গাছটি
মাঝে কুয়াশা মাখা কাঁচের জানালাটি একটি সীমারেখা টেনে দিয়েছে
যেমন করে তোমার আর আমার মধ্যে বৈতরণী, ব্রাহ্মণী, সূর্বণরেখা সীমারেখা
টেনেছে।
============================
0 মন্তব্যসমূহ